সামাজিক দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করা কোন ধরনের কার্যক্রম ?
Created: 6 years ago |
Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago
-
ক
সামাজিক দক্ষতা বিষয়ক পরীক্ষা
-
খ
সহশিক্ষা ক্রমিক কার্যক্রম
-
গ
জনসেবামূলক কার্যক্রম
-
ঘ
বিশেষ ক্লাস
উত্তরঃ
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই হলো একজন মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে বিকশিত করা, তার চিন্তাশক্তিকে শাণিত করা এবং তাকে আত্মবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্ববান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। অথচ গতানুগতিক পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা যেত শিশুর প্রতিভা বিকাশ তো দূরের কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিভার বিকাশ সংকোচিত হয়। আর এতে করে আমাদের শতশত সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটে। আমাদের অপার সম্ভাবনা এবং যোগ্যতা থাকার পরও আমরা আন্তর্জাতিক মানদন্ডে সব সময়ই পিছিয়ে ছিলাম। তবে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বিপ্লব সাধন করেছে, তা আমাদের জাতীয় উন্নয়নের ভিতকে আরও মজবুত করে তুলেছে, আমরা আমাদের মেধাকে বিশ্বের দরবারে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১ বছরের মাথায় যে শিক্ষনীতি প্রণয়ন করে, তাতে ছাত্রছাত্রীদের মুখস্ত বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হওয়ার গুরুত্বারোপ করা হয়। আর এ জন্য সরকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং তা সফলভাবে পরিচালনার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সহশিক্ষা কার্যক্রম হলো ছাত্র জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কার্যক্রমগুলো স্কুল - কলেজের সাধরন কারিক্যুলামের বাইরের কাজ, যেগুলো ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা সম্পন্ন হয়। এই ধরনের কাজগুলোর বেশিরভাগই স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই ছাত্রছাত্রীরা করে থাকে এবং এগুলো বাধ্যতামূলক কাজগুলোর মতো নয়। সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলো ছাত্রছাত্রীরা আনন্দের সাথে গ্রহণ করে। তারা এগুলো ব্যবহারিক এবং বৃত্তিমূলক কাজেও ব্যবহার করতে পারে। সেই সাথে এই কাজকর্ম তাদের সামাজিকতাকে বিকশিত করে। যেহেতু সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ায় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তাই ছাত্রছাত্রীরা পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রেখে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে তাতে অংশগ্রণ করে। তাদের আগ্রহের এবং প্রথম পছন্দের বিষয়টিই এখানে স্থান পায়। আর এটাই মূল শিক্ষাক্রম এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
অনেক অভিভাবক শুধু প্রতিযোগিতার মানসিকতায় সহশিক্ষা কার্যক্রমকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। তারা এগুলোকে সময় অপচয়ের কারণ মনে করতেন। এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় এবং এগুলো থেকে অর্জন করার মতো কিছু নেই বলেই তাদের ধারণা ছিল। বর্তমান সরকার ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এর কার্যকারিতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।
আমাদের বিদ্যালয়গুলো আজ ছাত্রছাত্রীদের কাছে স্বপ্নের মতো। আর তা বাস্তবায়নে সহশিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে নানা ধরণের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে উৎসব আয়োজন, খেলাধুলা, গানবাজনা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, মডেল, আর্ট, মিউজিক, নাটক, বিতর্ক এবং আলোচনা, গল্প প্রতিযোগিতা, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ওয়াল ম্যাগাজিন তৈরী, স্কুল ম্যাগাজিন প্রকাশ, লোকগান, লোকনৃত্য, ফুল প্রদর্শনী, স্কুল সাজানো, ভাস্কর্য তৈরী, অ্যালবাম তৈরী, ফটোগ্রাফি, মাটির জিনিস তৈরী, খেলনা তৈরী, সাবান তৈরী, ঝুড়ি তৈরী, প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী ইত্যাদি। এই কাজগুলো পরিচালনায় বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সরকারি প্রশাসন ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।
সহশিক্ষা কার্যক্রম কাজে দক্ষতা বাড়াতে এবং সেই সাথে শিখন - শিখানো কার্যক্রমেও বেশ প্রভাব ফেলতে পারে। সহশিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আমাদের শিশুরা শিক্ষার অন্য এক মানে খুজে পেয়েছে। বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা আর মুখস্ত বিদ্যার মাধ্যমে আমরা আমদের মেধাকে আস্তাকুড়ে ঠেলে দিচ্ছিলাম। সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা একদিকে যেমন তাদের মেধাকে শানিত করছে অন্যদিকে তাদের অর্জিত জ্ঞানকে প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে। ধরা যাক একটি বিদ্যালয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করা হবে। আর সেই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পড়ল ছাত্রছাত্রীদের কাধে। এই এক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে যে সকল প্রস্তুতি নিতে হয় তার মধ্যে রয়েছে, অনুষ্ঠানসূচি তৈরী, দায়িত্ব বন্টন, জায়গা নির্ধারণ, অতিথি নির্ধারণ, অতিথি নিমন্ত্রণ, অর্থের সংস্থান, শিক্ষকদের সাথে এবং বড়দের সাথে সমন্বয় সাধন, সৃষ্ট জটিলতা নিরসন, পারস্পরিক বোঝাপড়া, ঐকবদ্ধ কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অনুষ্ঠান পরিচালনার মতো নানা ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। এভাবে অন্যান্য বিষয়গুলোতেও তাদের সৃজনশীতা প্রদর্শনের ব্যাপক সুযোগ থাকছে। আর এই সৃজনশীরতা বৃদ্ধি করাইতো আমাদের লেখাপড়া করার মূল উদ্যেশ্য। যেগুলো শুধু বই পড়ে বা পরিক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কখনই সম্ভব নয়। আমরা যদি শুধু পরীক্ষা পাশ বা চাকুরি লাভের আশায় লেখাপড়া করি বা আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা পরিচালিত হয় তাহলে শিক্ষা নামের যে মেরুদন্ড তা কখনই সুগঠিত হতে পারবে না।
Azizar Rahman Aziz
6 years ago
Related Question
View All
Created: 3 years ago |
Updated: 3 months ago
Updated: 3 months ago
-
ক
আইনস্টাইন
-
খ
নিউটন
-
গ
মাদাম কুরি
-
ঘ
রাদারফোর্ড
Created: 3 years ago |
Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
-
ক
গণতন্ত্র
-
খ
বিচার ব্যবস্থা
-
গ
আইনের শাসন
-
ঘ
সংবিধান
Created: 4 years ago |
Updated: 4 months ago
Updated: 4 months ago
-
ক
পূর্বমূখী
-
খ
পশ্চিমমুখী
-
গ
উত্তরমুখী
-
ঘ
দক্ষিণ মুখী
Created: 6 years ago |
Updated: 5 months ago
Updated: 5 months ago
-
ক
নির্ধারিত শিখন ফল
-
খ
পরীক্ষায় প্রযুক্তি ও শ্রম
-
গ
বিষয়বস্তু
-
ঘ
প্রযুক্তির লভ্যতা
Created: 6 years ago |
Updated: 6 months ago
Updated: 6 months ago
-
ক
সামাজিকভাবে নারী ও পুরুষের জন্য সৃষ্ট ভূমিকা বা বৈশিষ্ট্য
-
খ
জেন্ডার শব্দটি লিঙ্গ শব্দের প্রতিশব্দ
-
গ
শুধু নারী ও পুরুষের মাঝে জৈবিক পার্থক্যের ইঙ্গিত দেয়
-
ঘ
নারীর প্রতি বৈষম্য
Created: 6 years ago |
Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago
-
ক
আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রস্তুতি
-
খ
শিশুর বিকাশে সহায়ক
-
গ
পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প
-
ঘ
দক্ষ -মানব সম্পদের উন্নতমানের প্রযুক্তি
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
Related Question
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন
সঠিক
ভুল
উত্তর নেই